পিএফ গ্রাহকদের জন্য সুখবর। এখন থেকে প্রভিডেন্ট ফান্ডের (PF) টাকা তোলার জন্য আর দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে না। স্মার্টফোনে থাকা ইউপিআই (UPI) ব্যবহার করেই সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়ে আসা যাবে পিএফ তহবিলের টাকা। সংবাদ সংস্থা ‘মানি কন্ট্রোল’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিল মাস নাগাদ এই বিশেষ অ্যাপটি চালু করতে পারে Employees’ Provident Fund Organisation (EPFO)।
কীভাবে কাজ করবে এই নতুন ব্যবস্থা?
বর্তমান ব্যবস্থায় উমাং (UMANG) অ্যাপ বা ইপিএফও পোর্টালের মাধ্যমে টাকা তোলার আবেদন করতে হয়। কিন্তু নতুন এই অ্যাপটি সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ভিম (BHIM) বা অন্যান্য ইউপিআই অ্যাপের সাথে যুক্ত থাকবে।
-
সহজ লগ-ইন: গ্রাহকরা অ্যাপে লগ-ইন করলেই তাদের বর্তমান ব্যালেন্স দেখতে পাবেন।
-
UPI পিন: লেনদেন সম্পন্ন করতে কেবল নিজের ইউপিআই পিন দিলেই হবে।
-
দ্রুত স্থানান্তর: টাকা সরাসরি গ্রাহকের সিডেড (Seeded) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে আসবে।
-
অন্যান্য সুবিধা: টাকা তোলা ছাড়াও এই অ্যাপ থেকে পাসবুক চেক করা বা অন্যান্য পরিষেবা পাওয়া যাবে।
পরীক্ষামূলক কাজ ও প্রস্তুতি
বর্তমানে এই প্রকল্পের প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ইপিএফও সূত্র মারফত জানা গেছে, প্রায় ১০০টি ‘ডামি’ অ্যাকাউন্ট দিয়ে পরীক্ষামূলক লেনদেন চালানো হচ্ছে। কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে তা দ্রুত সমাধান করার কাজ করছে শ্রম মন্ত্রক। একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টের একটি নির্দিষ্ট অংশ সংরক্ষিত রেখে বাকি টাকা ইউপিআই-এর মাধ্যমে তোলার সুযোগ দেওয়া হবে।
সাধারণ মানুষের কী লাভ হবে?
অসুস্থতা, বিবাহ, পড়াশোনা বা বাড়ি তৈরির মতো জরুরি প্রয়োজনে এখন অনেক দ্রুত টাকা হাতে পাওয়া যাবে। ইপিএফও-র লক্ষ্য হলো তাদের পরিষেবাগুলোকে আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সমতুল্য করে তোলা। বর্তমানে বছরে প্রায় ৫ কোটিরও বেশি দাবি নিষ্পত্তি করে এই সংস্থা। ইউপিআই ব্যবস্থা চালু হলে এই গতি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
চাকরি গেলে টাকা তোলার নিয়ম
পেশাদার জীবনে কোনো কারণে চাকরি হারালে আর্থিক সুরক্ষা দেয় এই পিএফ তহবিল। নিয়ম অনুযায়ী, চাকরি ছাড়ার এক মাস পর মোট জমানো টাকার ৭৫ শতাংশ তোলা যায়। বাকি ২৫ শতাংশ তোলা যায় দুই মাস পর। নতুন অ্যাপের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াও অনেক সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দ্রুত ছুটছে ভারত: জি-২০ দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির পূর্বাভাস
পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির জন্য আরও একটি ভালো খবর দিয়েছে রেটিং সংস্থা ‘মুডি’স’। তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার হতে পারে ৬.৪ শতাংশ। জি-২০ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারতের এই প্রবৃদ্ধির হারই হবে সর্বোচ্চ। অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরকারের সঠিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনাই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করছে সংস্থাটি।