অবসর-পরবর্তী জীবনে নিয়মিত উপার্জনের দুশ্চিন্তা দূর করতে ভারত সরকারের ‘SCSS প্রকল্প’ (Senior Citizen Savings Scheme – SCSS) একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। আপনি যদি আগে থেকে পেনশনের পরিকল্পনা না করে থাকেন, তবে এই প্রকল্পটি আপনার জন্য আয়ের একটি স্থায়ী উৎস হতে পারে।
Senior Citizen Savings Scheme (SCSS) কী?
এটি প্রবীণ নাগরিকদের জন্য তৈরি একটি সরকারি সঞ্চয় ও পেনশন প্রকল্প। এতে আমানত রাখলে নির্দিষ্ট সময় অন্তর সুদ পাওয়া যায়, যা অবসর জীবনের নিয়মিত খরচ সামলাতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে আয়কর ছাড়ের সুবিধাও রয়েছে।
কারা এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারেন?
SCSS-এ বিনিয়োগের জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে:
-
বয়সসীমা: সাধারণত ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিরা এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন।
-
বিশেষ ছাড়: যারা ৫৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে স্বেচ্ছায় অবসর (VRS) নিয়েছেন, তারাও শর্তসাপেক্ষে বিনিয়োগ করতে পারেন।
-
প্রতিরক্ষা কর্মী: অবসরপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা কর্মীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ৫০ বছর।
বিনিয়োগের সীমা ও নিয়মাবলী
এই প্রকল্পে বিনিয়োগের পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ:
-
ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ সীমা: আপনি সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারেন। স্বামী-স্ত্রী মিলে আলাদা অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোট ৬০ লক্ষ টাকা জমা রাখা সম্ভব।
-
জমার পদ্ধতি: টাকা এককালীন জমা দিতে হবে, কিস্তিতে নয়। ১ লক্ষ টাকার বেশি হলে চেকে পেমেন্ট করা বাধ্যতামূলক।
-
বিনিয়োগের একক: আমানত অবশ্যই ১,০০০ টাকার গুণিতকে হতে হবে।
সুদের হার ও মাসিক আয়ের হিসাব
বর্তমানে (২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিক অনুযায়ী) এই প্রকল্পের বার্ষিক সুদের হার ৮.২%।
একটি উদাহরণ দেখে নেওয়া যাক: যদি কেউ এককালীন ৩০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন, তবে তিনি বছরে ২.৪৬ লক্ষ টাকা সুদ পাবেন। অর্থাৎ, প্রতি মাসে তাঁর গড় আয় হবে প্রায় ২০,৫০০ টাকা। প্রতি তিন মাস অন্তর (এপ্রিল, জুলাই, অক্টোবর ও জানুয়ারি মাসে) এই সুদের টাকা সরাসরি গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে।
প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ
১. নিরাপত্তা: সরকারি প্রকল্প হওয়ায় এখানে মূলধন হারানোর কোনো ভয় নেই। ২. মেয়াদ: এই প্রকল্পের মেয়াদ ৫ বছর। তবে মেয়াদ শেষের পর চাইলে আরও ৩ বছর বাড়ানো যায়। ৩. নমিনি সুবিধা: অ্যাকাউন্ট খোলার সময় বা পরে যে কাউকে ‘নমিনি’ হিসেবে যুক্ত করা যায়। ৪. অ্যাকাউন্ট বদল: ভারতের যেকোনো পোস্ট অফিস বা ব্যাংকের মধ্যে এই অ্যাকাউন্ট স্থানান্তর করা সম্ভব।
কর ছাড়ের সুবিধা (Tax Benefits)
SCSS-এ বিনিয়োগ করলে আয়কর আইনের 80C ধারা অনুযায়ী বছরে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাওয়া যায়। তবে মনে রাখবেন:
-
শুধুমাত্র মূল বিনিয়োগের ওপর এই ছাড় প্রযোজ্য।
-
অর্জিত সুদের পরিমাণ বছরে ৫০,০০০ টাকার বেশি হলে TDS কাটা হয়।
-
যাদের বার্ষিক আয় করযোগ্য সীমার নিচে, তারা Form 15H/15G জমা দিয়ে TDS থেকে রেহাই পেতে পারেন।
মাঝপথে টাকা তোলার নিয়ম
জরুরি প্রয়োজনে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই টাকা তোলা সম্ভব, তবে সেক্ষেত্রে কিছু জরিমানা দিতে হয়:
-
১ বছরের মধ্যে: টাকা তুললে কোনো সুদ পাওয়া যায় না।
-
১ থেকে ২ বছরের মধ্যে: জমা টাকার ১.৫% কেটে নেওয়া হয়।
-
২ বছরের পর: জমা টাকার ১% জরিমানা হিসেবে কাটা হয়।
একাধিক অ্যাকাউন্ট কি খোলা যায়?
হ্যাঁ, আপনি একাধিক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। তবে সব অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ যেন ৩০ লক্ষ টাকার বেশি না হয়। স্বামী বা স্ত্রীর সাথে জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধাও রয়েছে।
নিরাপদ বিনিয়োগ এবং নিশ্চিত আয়ের জন্য প্রবীণ নাগরিকদের কাছে SCSS-এর চেয়ে ভালো বিকল্প খুব কমই আছে। একবার বিনিয়োগ করলে পরবর্তী ৫ বছর সুদের হারের পরিবর্তন নিয়ে ভাবতে হয় না, যা বাজারের ওঠানামার মধ্যেও আপনাকে নিশ্চিন্ত রাখবে।